Skip to content

আবেদন পত্র · 5 min read · 26 Sept 2026

চাকরির আবেদন পত্র লেখার নিয়ম (বাংলা ও ইংরেজি নমুনাসহ)

সরকারি চাকরির জন্য বাংলা দরখাস্ত আর বেসরকারি চাকরির জন্য ইংরেজি কভার লেটার: দুটোর নিয়ম আলাদা। কোনটা কখন লাগে, কী ক্রমে লিখবেন আর দুটোর নমুনা, সব এক জায়গায়।

চাকরির আবেদনে সিভির সাথে যে চিঠিটা যায়, সেটাই আবেদন পত্র। কেউ বলেন দরখাস্ত, কেউ বলেন কভার লেটার। নাম যা-ই হোক, এর কাজ একটাই: নিয়োগকর্তাকে এক নজরে জানানো আপনি কোন পদে আবেদন করছেন আর কেন আপনি ডাকার মতো প্রার্থী।

বাংলাদেশে আবেদন পত্র মূলত দুই ধরনের, আর দুটোর নিয়ম আলাদা:

  • সরকারি চাকরি: সাধারণত বাংলায়, নির্দিষ্ট ফরমেটে লেখা দরখাস্ত।
  • বেসরকারি, ব্যাংক, এনজিও আর বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান: ইংরেজিতে কভার লেটার।

নিচে দুটোরই নিয়ম আর নমুনা দেওয়া হলো।

সরকারি চাকরির আবেদন পত্র (বাংলা দরখাস্ত)

কোন ক্রমে লিখবেন

সরকারি দরখাস্তের ফরমেট প্রায় নির্দিষ্ট। এই ক্রম মেনে লিখুন:

  1. তারিখ: সবার উপরে বাম দিকে।
  2. বরাবর: যাঁর কাছে আবেদন, তাঁর পদবি আর প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা। সার্কুলারে যেভাবে লেখা আছে, হুবহু সেভাবেই লিখুন।
  3. বিষয়: এক লাইনে, পদের নাম দিয়ে। যেমন: "অফিস সহকারী পদে নিয়োগের জন্য আবেদন।"
  4. সম্বোধন: "জনাব," বা "মহোদয়,"।
  5. মূল অংশ: কোন বিজ্ঞপ্তি দেখে আবেদন করছেন (পত্রিকা বা ওয়েবসাইটের নাম আর তারিখসহ), তারপর আপনার সংক্ষিপ্ত পরিচয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা আর অভিজ্ঞতা।
  6. শেষ অনুরোধ: নিয়োগের জন্য বিনীত অনুরোধ।
  7. বিনীত নিবেদক: আপনার স্বাক্ষর, নাম আর ঠিকানা।
  8. সংযুক্তি: কোন কোন কাগজ দিচ্ছেন তার তালিকা।

সার্কুলারে নির্দিষ্ট ফরম বা ছক দেওয়া থাকলে নিজের ফরমেট না, সেই ছকই হুবহু পূরণ করুন। বেশিরভাগ বাদ পড়ার কারণ ফরমেট না মানা বা কোনো তথ্য বাদ দেওয়া।

নমুনা: সরকারি চাকরির আবেদন পত্র

তারিখ: 15 অক্টোবর 2026

বরাবর
মহাপরিচালক
[অধিদপ্তরের নাম]
[ঠিকানা]

বিষয়: "অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক" পদে নিয়োগের জন্য আবেদন।

জনাব,
বিনীত নিবেদন এই যে, গত [তারিখ] তারিখে দৈনিক [পত্রিকার নাম] পত্রিকায় প্রকাশিত
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানতে পারলাম যে, আপনার অধীনে উক্ত পদে কিছু সংখ্যক
লোক নিয়োগ দেওয়া হবে। আমি উক্ত পদের একজন প্রার্থী হিসেবে আবেদন করছি।
আমার প্রয়োজনীয় তথ্যাদি নিচে দেওয়া হলো:

1. নাম                : [আপনার নাম]
2. পিতার নাম          : [পিতার নাম]
3. মাতার নাম          : [মাতার নাম]
4. জন্ম তারিখ         : [দিন/মাস/বছর]
5. জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর : [NID নম্বর]
6. বর্তমান ঠিকানা     : [ঠিকানা]
7. স্থায়ী ঠিকানা       : [গ্রাম, ডাকঘর, উপজেলা, জেলা]
8. মোবাইল নম্বর       : [নম্বর]
9. শিক্ষাগত যোগ্যতা   :

   পরীক্ষা   বোর্ড/বিশ্ববিদ্যালয়   পাসের বছর   ফলাফল
   SSC       [বোর্ড]              [বছর]        GPA [x.xx]
   HSC       [বোর্ড]              [বছর]        GPA [x.xx]
   স্নাতক     [বিশ্ববিদ্যালয়]         [বছর]        CGPA [x.xx]

10. কম্পিউটার দক্ষতা  : [যেমন: MS Word, Excel, বাংলা ও ইংরেজি টাইপিং]
11. অভিজ্ঞতা          : [থাকলে পদ, প্রতিষ্ঠান আর সময়কাল]

অতএব, মহোদয়ের নিকট বিনীত প্রার্থনা এই যে, আমার উল্লিখিত যোগ্যতা বিবেচনা করে
উক্ত পদে নিয়োগ দিয়ে বাধিত করবেন।

বিনীত নিবেদক,
[স্বাক্ষর]
[আপনার নাম]

সংযুক্তি:
1. সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের ছবি: 2 কপি
2. সকল শিক্ষাগত সনদের সত্যায়িত কপি
3. জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপি
4. নাগরিকত্ব সনদের সত্যায়িত কপি

সংযুক্তির তালিকা সার্কুলার অনুযায়ী বদলান। যা চাওয়া হয়েছে তার সবই দিন, আর যা চাওয়া হয়নি তা যোগ করবেন না।

বেসরকারি চাকরির আবেদন পত্র (ইংরেজি কভার লেটার)

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক আর এনজিওতে আবেদন পত্র মানে ইংরেজি কভার লেটার। এখানে ফরমেট অতটা কড়া না, কিন্তু প্রত্যাশা বেশি: শুধু পরিচয় দিলে চলবে না, দেখাতে হবে আপনি এই পদের জন্য কেন উপযুক্ত।

কোন ক্রমে লিখবেন

  1. তারিখ আর প্রাপকের নাম-পদবি: নাম জানা থাকলে নাম দিয়ে সম্বোধন করুন ("Dear Ms. Rahman,")। না জানলে "Dear Hiring Manager,"।
  2. প্রথম অনুচ্ছেদ: কোন পদে আবেদন করছেন আর কোথায় বিজ্ঞপ্তি দেখেছেন, এক-দুই লাইনে।
  3. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সার্কুলারে যা চাওয়া হয়েছে, তার সাথে মিলিয়ে আপনার দুটো সবচেয়ে শক্তিশালী যোগ্যতা, উদাহরণসহ।
  4. তৃতীয় অনুচ্ছেদ: এই প্রতিষ্ঠানেই কেন কাজ করতে চান, নির্দিষ্ট করে।
  5. শেষ: ইন্টারভিউর সুযোগ চেয়ে ভদ্র সমাপ্তি, তারপর "Sincerely," আর আপনার নাম।

নমুনা: ইংরেজি কভার লেটার (ফ্রেশার, ব্যাংকের পদ)

15 October 2026

Hiring Manager
Human Resources Division
[Bank name]
[Address]

Subject: Application for the post of Management Trainee Officer

Dear Hiring Manager,

I am writing to apply for the Management Trainee Officer position advertised on
[Bdjobs / your website] on [date]. I recently completed my BBA in Finance from the
University of Dhaka with a CGPA of 3.62 out of 4.00.

During a three-month internship in the credit division of [bank name], I reviewed
loan files for SME customers and prepared summaries of borrowers' financial
statements for the credit committee. As president of my university's business club,
I also organised a 40-member team to run two national case competitions, which
taught me to work to deadlines and communicate clearly with senior people.

I am drawn to [bank name] because of its focus on [a specific area, e.g. SME
banking in districts outside Dhaka], and I would welcome the chance to learn it
from the ground up through your trainee programme.

Thank you for considering my application. My CV is attached, and I would be glad to
discuss how I can contribute at an interview.

Sincerely,
[Your name]
[Phone] · [Email]

এই চিঠি যে সিভির সাথে যাবে, সেটার পুরো নমুনা দেখুন: ব্যাংকের চাকরির সিভি নমুনা (MTO)। চিঠি আর সিভি একই মানুষের, তাই দেখতে পাবেন সিভির কোন তথ্যগুলো চিঠিতে তুলে আনা হয়েছে আর কোনগুলো বাদ রাখা হয়েছে।

ইংরেজি কভার লেটারের আরও বিস্তারিত নিয়ম আর আলাদা আলাদা পদের নমুনা পাবেন আমাদের cover letter format guide-এ।

যে ভুলগুলো আবেদন বাতিল করায়

  1. ভুল পদের নাম বা ভুল প্রতিষ্ঠানের নাম। একই চিঠি কপি করে দশ জায়গায় পাঠালে এই ভুলটাই সবচেয়ে বেশি হয়। পাঠানোর আগে নাম দুবার মিলিয়ে নিন।
  2. সার্কুলারের নির্দিষ্ট ফরম না মানা। সরকারি আবেদনে এটা সরাসরি বাতিলের কারণ হতে পারে।
  3. সিভির কথা হুবহু আবার লেখা। আবেদন পত্র সিভির সারসংক্ষেপ না। সিভির দুটো সেরা বিষয় বেছে নিয়ে সেগুলো পদের সাথে যুক্ত করুন।
  4. অতিরিক্ত লম্বা চিঠি। এক পৃষ্ঠার বেশি হলে পড়ার সম্ভাবনা কমে।
  5. বানান আর ব্যাকরণের ভুল। বাংলা দরখাস্তে সাধু আর চলিত ভাষা মিশিয়ে ফেলাও একটা সাধারণ ভুল। নমুনার মতো একটা রীতিতেই লিখুন।
  6. সংযুক্তি ভুলে যাওয়া। ইমেইলে আবেদন করলে সিভি আর কাগজপত্র PDF করে সংযুক্ত করেছেন কি না, পাঠানোর আগে দেখে নিন।

সিভি আর কভার লেটার একসাথে বানান

আবেদন পত্র যতই ভালো হোক, সাথে যাওয়া সিভিটাই শেষ পর্যন্ত বিচার হয়। সিভি কীভাবে সাজাবেন, তা নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন চাকরির জন্য সিভি লেখার নিয়ম-এ।

PromptCV-তে আপনি সিভি আর ইংরেজি কভার লেটার একই জায়গায় বানাতে পারবেন। আপনার সিভি আর জব সার্কুলার থেকে AI দিয়ে কভার লেটারের পুরো ড্রাফট তৈরি করে নিতে পারবেন, তারপর নিজের মতো এডিট করবেন, আর দুটোই মানানসই টেমপ্লেটে সাজানো থাকবে। সিভি বানানো, এডিট আর প্রিভিউ ফ্রি, শুধু ক্লিন PDF ডাউনলোডের জন্য পে করবেন, কোনো সাবস্ক্রিপশন নেই।

Frequently asked questions

আবেদন পত্র আর কভার লেটার কি একই জিনিস?
কাজ একই: সিভির সাথে একটা চিঠি, যেটা বলে আপনি কোন পদে আবেদন করছেন আর কেন উপযুক্ত। সরকারি চাকরিতে সাধারণত বাংলায় নির্দিষ্ট ফরমেটের দরখাস্ত লাগে, আর বেসরকারি চাকরিতে ইংরেজিতে কভার লেটার।
আবেদন পত্র কত বড় হওয়া উচিত?
এক পৃষ্ঠার মধ্যে। সরকারি দরখাস্ত সাধারণত আরও ছোট হয়, আর ইংরেজি কভার লেটার 250-350 শব্দের মধ্যে রাখাই ভালো।
অনলাইনে আবেদন করলেও কি আবেদন পত্র লাগে?
Teletalk-এর মতো অনলাইন ফরমে আবেদন করলে আলাদা দরখাস্ত সাধারণত লাগে না, ফরমটাই আবেদন। ইমেইলে বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পোর্টালে আবেদন করলে কভার লেটার দেওয়াই ভালো, চাওয়া না থাকলেও।
হাতে লিখব নাকি টাইপ করব?
সার্কুলারে হাতে লেখা দরখাস্ত চাওয়া না থাকলে টাইপ করা আবেদনই দিন। হাতে লিখতে বলা থাকলে পরিষ্কার হাতের লেখায়, কাটাকুটি ছাড়া লিখুন।
আবেদন পত্রে বেতন উল্লেখ করব?
সার্কুলারে প্রত্যাশিত বেতন চাওয়া না থাকলে আবেদন পত্রে বেতনের কথা লিখবেন না। চাওয়া থাকলে একটা যুক্তিসঙ্গত পরিসর দিন।

Build yours in about 10 minutes

AI bullets, ATS scoring, and a one-time fee only when you download. No subscription.